মাওলানা জুনাইদ
ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার সংরক্ষণ
একটি মুসলিম রাষ্ট্রে, মুসলিম সমাজে বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলিমদের কী ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, তাদের প্রতি আমাদের কী দায়িত্ব, এবং তাদের উপর আমাদের কী ধরনের অধিকার রয়েছে—এ বিষয়গুলো মুসলিম হিসেবে আমাদের বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলাম এসেছে মানবজাতির অধিকার রক্ষার জন্য। এটি শুধু মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করে না, বরং অমুসলিমদের অধিকারও সুরক্ষিত রাখে। ইসলাম, কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে অমুসলিমদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত, তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। নবীজি (সা.) এবং সাহাবাগণের আচরণে এ বিষয়ে অনেক উদাহরণ রয়েছে।
অমুসলিমদের সঙ্গে সহাবস্থান:
যে মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমরাও বসবাস করে এবং যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সবার অধিকার সমানভাবে রক্ষিত, সেখানে অমুসলিম নাগরিকদের সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
لَا یَنۡهٰىكُمُ اللّٰهُ عَنِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یُقَاتِلُوۡكُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَ لَمۡ یُخۡرِجُوۡكُمۡ مِّنۡ دِیَارِكُمۡ اَنۡ تَبَرُّوۡهُمۡ وَ تُقۡسِطُوۡۤا اِلَیۡهِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ
অর্থ : দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করছেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালবাসেন। [সূরাঃ আল-মুমতাহিনা]
এ আয়াত থেকে প্রতিফলিত হয় যে, ইসলাম অমুসলিমদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণের আহ্বান জানায়। এমনকি পশুপাখি এবং অন্যান্য জীবের অধিকারও সুরক্ষিত করতে ইসলাম উপদেশ দেয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী
আব্দুর রাহমান ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ’আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সঙ্গী ছিলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজনে অন্যত্র গেলেন। ’আমরা দু’টি বাচ্চাসহ একটি পাখি দেখতে পেয়ে বাচ্চা দুটোকে ধরে নিলাম। মা পাখিটা সাথে সাথে আসলো এবং পাখা ঝাঁপটিয়ে বাচ্চার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে বললেনঃ কে এর বাচ্চা নিয়ে এসে একে অস্থিরতায় ফেলেছে? বাচ্চাগুলো এদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও। তিনি আমাদের পুড়িয়ে দেয়া একটা পিঁপড়ার টিবি দেখতে পেয়ে বললেনঃ কে এগুলো পুড়িয়েছে? ’আমরা বললাম, ’আমরা। তিনি বললেনঃ আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেয়ার কারো অধিকার নেই। [সুনান আবূ দাউদ হাদিস:২৬৭৫]
মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নিরাপত্তা:
যেসব অমুসলিম মুসলিম দেশের শাসনব্যবস্থা মেনে সেখানে বসবাস করেন, তাদের নিরাপত্তা ইসলামের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাসূল (সা.) বলেছেন:
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন জিম্মীকে কতল করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব হতে পাওয়া যাবে। [সহীহ বুখারী হাদিস:৩১৬৬]
হাদীটটির ব্যাখ্যা:
জিম্মী (নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি): ইসলামে "জিম্মী" বলতে সেই ব্যক্তি বোঝানো হয়, যে ব্যক্তি মুসলিম শাসনের অধীনে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, অর্থাৎ মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী কোনো অমুসলিম, যে শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করছে এবং তার জীবনের নিরাপত্তা মুসলিম শাসকের কাছ থেকে নিশ্চিত। এটি বিশেষত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে যুদ্ধবিরতির সময় নির্দিষ্ট শর্তে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
কতল বা হত্যা: হাদীটটি একজন জিম্মী বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা সম্পর্কে সতর্কতা প্রদান করছে। ইসলামে কোনো নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির জীবনকে বিপদে ফেলা বা তাকে হত্যা করা একটি ভয়ঙ্কর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি ইসলামী আইন এবং নৈতিকতার বিরুদ্ধে।
জান্নাতের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া: রাসূল (সা.) বলেছেন যে, যদি কেউ একজন জিম্মীকে হত্যা করে, তবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না, যদিও তা চল্লিশ বছর দূরত্বে থাকুক। এর মাধ্যমে রাসূল (সা.) তার গুরুতর অপরাধের প্রতিফলন সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করেছেন এবং ওই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের পরিপূর্ণ সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরিণতি তুলে ধরেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, শান্তি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়ের প্রতি ইসলাম কতটা গুরুত্ব দেয়।
অর্থাৎ, ইসলাম অমুসলিমদের জীবনের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে উৎসাহিত করে।
এটি এমন একটি সময়কাল ছিল যখন ইসলামের প্রথম যুগে সাহাবাগণ অমুসলিমদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন, এবং বহু অমুসলিম ইসলামকে গ্রহণ করেছিলেন সাহাবাদের উদার আচরণ দেখে।
মদীনা সনদ:
মদীনা সনদ হল একটি ঐতিহাসিক চুক্তি যা রাসূল (সা.) মদীনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে করেছিলেন। এটি ছিল একটি বৈশ্বিক উদাহরণ যেখানে মুসলিম, ইহুদি, পৌত্তলিক এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষ একত্রে বাস করতে পারতেন। এই চুক্তির অধীনে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তার নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন যাপন করত, তবে মদীনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য একে অপরকে সহায়তা করত। এটি আজও একটি চিরকালীন শিক্ষা, যা পৃথিবীর রাষ্ট্রতত্ত্ববিদরা প্রশংসা করে।
যুদ্ধের সময়ে অমুসলিমদের উপাসনালয়ে আক্রমণ নিষিদ্ধ:
ইসলামে যুদ্ধের সময়েও অমুসলিমদের উপাসনালয়ে আক্রমণ নিষিদ্ধ। রাসূল (সা.) যখন সৈন্য পাঠাতেন, তখন তিনি তার সাহাবাদের বলতেন: "যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবে না, কাউকে হত্যা করবে না, গির্জা বা উপাসনালয়ে আক্রমণ করবে না।" [সহীহ মুসলিম]
হাদীটটির মূল বক্তব্য:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের সময় মুসলিম সেনাদেরকে যে নীতিমালা অনুসরণ করতে বলেছেন, তা ছিল খুবই মানবিক এবং ন্যায়পরায়ণ:
- বাড়াবাড়ি করা নিষিদ্ধ: যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যধিকতা বা বাড়াবাড়ি করা ইসলাম মেনে নেবে না। যুদ্ধের সময় কোনো ব্যক্তি বা জনগণের ওপর অত্যাচার, অত্যাধিক আক্রমণ বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ।
কাউকে হত্যা না করা: ইসলামে নিষিদ্ধ যে, এমন কোনো ব্যক্তি বা জনগণকে হত্যা করা, যারা যুদ্ধের মধ্যে অংশগ্রহণ করছে না, যেমন: মহিলা, শিশুরা, বৃদ্ধরা এবং অন্য নিরপরাধ ব্যক্তিরা। এছাড়া যুদ্ধবন্দিদের প্রতি অত্যাচার বা হত্যার জন্য কোনো অনুমোদন নেই।
গির্জা বা উপাসনালয়ে আক্রমণ না করা: ইসলামে যুদ্ধের সময়ে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়, মন্দির বা গির্জা আক্রমণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি মুসলিমদের কর্তব্য যে, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং তাদের ধর্মীয় স্থানসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
এমন ধর্ম কখনোই যুদ্ধের সময় বা সাধারণ অবস্থায় অমুসলিমদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বা হানিকারক আচরণ সমর্থন করে না। ইসলামের সোনালি যুগে, মুসলিম সৈন্যরা বিদেশি ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে সেখানে সাধারণ জনগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করত, কারণ তারা দেখেছিল যে মুসলিম সৈন্যরা যুদ্ধের সময়ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি রক্ষা করে।
অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক:
ইসলামে অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন ও তাদের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাসূল (সা.) নিজে অনেকবার অমুসলিমদের বাড়িতে গিয়েছেন, তাদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করেছেন। একটি হাদীসে বলা হয়েছে, "একটি ইহুদি মহিলা নবী (সা.)-এর কাছে বিষ মিশ্রিত বকরী নিয়ে আসেন, এবং নবী (সা.) তার কিছু অংশ খেয়েছিলেন।" [সহীহ বুখারী হাদিস:৩১৬৯]
অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক কাজকর্ম করা এবং তাদের সহযোগিতা করা ইসলামের মধ্যে অনুমোদিত। সাহাবারা প্রমাণ করেছেন যে, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় পার্থক্য বজায় রেখে অমুসলিমদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রাখা যায়।
ইসলাম কাউকে ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না:
ইসলাম কখনও কাউকে ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَاۤ اِكۡرَاهَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ فَمَنۡ یَّكۡفُرۡ بِالطَّاغُوۡتِ وَ یُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰهِ فَقَدِ اسۡتَمۡسَكَ بِالۡعُرۡوَۃِ الۡوُثۡقٰی ٭ لَا انۡفِصَامَ لَهَا ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ
অর্থ : দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
অর্থাৎ, ইসলাম শান্তি, ন্যায্যতা এবং সমতার পথে চলতে বলেছে, কিন্তু কাউকে ধর্ম পরিবর্তনে জোর জবরদস্তি করা সমর্থন করে না।
আয়াতের ব্যাখ্যা:
ধর্মে জবরদস্তি নেই: এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ধর্ম গ্রহণে কোনো জবরদস্তি বা জোর-জবরদস্তি নেই। মানুষ তার বিশ্বাসের ব্যাপারে মুক্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস বা অবিশ্বাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, এবং সেক্ষেত্রে মুসলিমদের কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের অধিকার নেই।
হিদায়াত ও ভ্রষ্টতার পার্থক্য: এই আয়াতে হিদায়াত (সঠিক পথ) এবং ভ্রষ্টতা (পথভ্রষ্টতা) এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। যিনি সঠিক পথ গ্রহণ করেছেন, তিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করেন এবং যিনি ভ্রষ্ট হয়ে যান, তিনি আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হন। হিদায়াত বা সঠিক পথ স্পষ্ট, আর ভ্রষ্টতা এক ধরনের বিভ্রান্তি বা অজ্ঞতা।
তাগূতকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা: এই আয়াতে তাগূত (অথবা মিথ্যা ঈশ্বর বা যেকোনো ক্ষমতাশালী মূর্তি বা সত্তা, যা আল্লাহর প্রতিপক্ষ) এর বিরুদ্ধে তীব্রভাবে সতর্ক করা হয়েছে। যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, সে একটি মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা কখনো ছিন্ন হতে পারে না। এখানে "মজবুত রশি" বলতে ইসলামের শক্তিশালী বিশ্বাস বা আল্লাহর প্রতি ঈমান বোঝানো হয়েছে, যা কখনো ভাঙতে পারে না বা নষ্ট হতে পারে না। এই রশি হলো ঈমানের শক্তি, যা মানুষকে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করে এবং তার পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে।
আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ: এই অংশে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ সব কিছু শোনেন এবং জানেন। তিনি জানেন, কে ঈমান এনেছে এবং কে ভ্রষ্ট হয়েছে, এবং তিনি জানেন, প্রত্যেক মানুষের অন্তরে কি চলছে।
নবী (সা.)-এর আচরণ:
নবী (সা.) নিজেও অমুসলিমদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি একজন যুদ্ধবন্দিকে যখন মসজিদে নববীর খুটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন, তখন তার হাত শক্তভাবে বাঁধা দেখে তাকে আরামদায়ক করে বাঁধার নির্দেশ দিয়েছিলেন। [সহীহ বুখারি]
আবদুল্লাহ বিন সালাম, যিনি একজন ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন, নবী (সা.)-এর মহান চরিত্র দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় পদার্পণ করলে লোকেরা তাঁকে দেখার জন্য ভীড় জমায় এবং বলাবলি হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। আমিও লোকেদের সাথে তাঁকে দেখতে গেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যেকথা বলেন তা হলোঃ হে লোকসকল! তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, অভুক্তকে আহার করাও এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। [তিরমিযী ২৪৮৫ দারিমী ১৪৬০ ইবনু মাজাহ ৩২৫১]
মক্কা বিজয়ের সময়ও, যখন মক্কার লোকেরা নবী (সা.)-এর কাছে ক্ষমা চায়, তিনি তাদের "ইউসুফ (আ.)" এর মতো ক্ষমা করেন এবং তাদের হত্যা না করার সিদ্ধান্ত নেন। (সীরাত ইবনে হিশাম)
বাংলাদেশের পরিস্থিতি:
বাংলাদেশে ধর্মীয় সহাবস্থান একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের দেশে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এবং এর ফলস্বরূপ, দেশে বড় ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা হয়নি। আমাদের উচিত ইসলাম ও নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সব ধর্মের মানুষদের প্রতি সদাচার এবং সহানুভূতির সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের মাতৃভূমিকে শান্তিপূর্ণ রাখুন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টির তাওফিক দান করুন।

0 মন্তব্যসমূহ